Home BREAKING NEWS প্রার্থী তালিকায় নাম নেই, বিজেপি ছাড়লেন পুর পরিষদের বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান

প্রার্থী তালিকায় নাম নেই, বিজেপি ছাড়লেন পুর পরিষদের বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান

by News On Time Tripura
0 comment

কৈলাশহর:

বিজেপি ছাড়লেন কৈলাসহর পুরপরিষদের বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান নিতীশ দে, দলে পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ।

সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ছাড়ার ঘোষণা দিলেন কৈলাসহর পুর পরিষদের বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান তথা দলের রাজ্য কমিটির সদস্য নিতীশ দে। তাঁর এই দল ত্যাগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে তিনি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কৈলাসহরে বর্তমানে পরিবারতন্ত্র চলছে এবং সাধারণ কর্মীদের কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নিতীশ দে। তাঁর মতে, দলের পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের উপেক্ষা করে একটি বিশেষ পরিবারতন্ত্র ও একদলীয় মনোভাবের কবলে দল পরিচালিত হচ্ছে। গত পাঁচ বছর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে দুঃসময় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। দলের ভেতরে নানা অপবাদ ও কোন্দলের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে, অথচ নেতৃত্বকে বারবার জানিয়েও কোনো বিচার বা সুরাহা মেলেনি।
কৈলাসহর পুর পরিষদ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের রাজত্ব চলছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ডল সভাপতি বা স্থানীয় নেতৃত্বদের অবমূল্যায়ন করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে সবকিছু চলছে। ২০১৮ সালের সরকার পরিবর্তনের জন্য যেসব কর্মী ও নেতৃত্ব রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছিলেন, আজ তাদের কোনো খোঁজ রাখা হয় না এবং তাদের ত্যাগের কোনো মূল্যায়ন দলে নেই।
তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে লড়ার কোনো মানসিকতা তাঁর আর ছিল না। দীর্ঘ দিন সততার সাথে দলের সেবা করলেও শেষ পর্যন্ত আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি আর কখনো কোনো রাজনৈতিক দলে কাজ করব না। রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসান নেওয়ার সিদ্ধান্ত আজই গ্রহণ করলাম। কাল থেকে প্রয়োজন হলে রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করে খাব, তবুও আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকব।”
পরিশেষে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির যে মূল আদর্শ ও বিচার ছিল, তা আজ ভূলুণ্ঠিত। এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

You may also like