
রাসেল আহমেদ, আগরতলা, ১৯ আগষ্ট:
দুরারোগ্য ব্যাধি SMA তে আক্রান্ত একমাত্র কন্যা সন্তান মনশ্রী। চিকিৎসা বাবদ চাই প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এই টাকা জোগাতে দীর্ঘদিন যাবত সমগ্র রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ক্রাউড ফাইন্ডিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা সনু সুদ এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী হুসাইন মানসুরির শরণাপন্ন হয়েছেন মনশ্রীর পিতা মাতা।

সমস্যা অনুধাবন করে মনশ্রীর বাড়িতে এসে ৫ লক্ষ টাকা অর্থ রাশি দিয়ে গেছেন হুসাইন মনসুরি।

সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ক্রাউড ফান্ডিং এর মাধ্যমে টাকা উঠেছে প্রায় ছয় কোটি টাকার মতো। এখনো প্রয়োজন আরো ১০ কোটি। SMA -কে প্রতিরোধ করতে শিশুর বয়স দু বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে জোলগেনসমা নামক ইঞ্জেকশন রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কোটি টাকা। মনশ্রীর দু’বছর হতে আর মাত্র হাতে গোনা অল্প কয়েকদিন বাকি। ইতিমধ্যেই এই টাকা জোগাড় করতে না পারলে হয়তো ইনজেকশনটি মনশ্রীর শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না। মনশ্রীর চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে দিনরাত এক করে মনশ্রীর বাবা মায়ের সঙ্গে খেটে যাচ্ছেন বনমালী পুরের সামাজিক ব্যক্তিত্ব রাজা সাহা সহ একদল যুবক-যুবতী। বুধবার সকালে মনশ্রী পিতা ধ্রুব চৌধুরী তার ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট করেন। যা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতই ঘটনা। মনশ্রীর পিতা তার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন
“জরুরি আবেদন
ভারতের কোন শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালে সমস্ত আইন ও সরকারি নিয়ম মেনে বৈধভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন (Kidney Transplant) করা হয়, সে বিষয়ে আমার সঠিক ধারণা নেই। তাই এ বিষয়ে অভিজ্ঞ, জ্ঞানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরা দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। খুব শীঘ্রই প্রয়োজন।🙏Kindly inbox me.”
তার এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই ইতিমধ্যেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে মনশ্রীর পিতা কি অসুস্থ কন্যার জন্য তার নিজের কিডনি বিক্রি করে দেবেন? নাকি অন্য কারুর চিকিৎসার জন্য তিনি এই পোস্টটি করেছেন? কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতের ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য ত্রিপুরায় বসবাসকারী একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সরকারী সহায়তা ছাড়া এত বড় অংকের টাকা জোগাড় করে ইনজেকশন প্রয়োগ করা এক প্রকার অসম্ভবই বলা যায়। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার যে অর্থ রাশি সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব নিয়েছেন তা এই বিশাল অংকের সামনে একেবারেই নগণ্য। এ অবস্থায় একজন পিতার নিজের কিডনি বিক্রি করার মানসিকতা তৈরি হওয়া মোটেও অসম্ভব কিছু না।

ওয়াকিবহাল মহলের মন্তব্য স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও ভারতবর্ষের মতো এত বড় রাষ্ট্রে এখনো কেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা সরকার করতে পারছে না? অন্যান্য প্রথম সারির উন্নত দেশগুলোতে মানব জীবনের প্রাথমিক ন্যূনতম চাহিদাগুলো বিনামূল্যেই দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। শুধুমাত্র মনশ্রীই নয় রাজ্য তথা দেশের সকল অংশের জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ব্যয় সরকারকেই নিতে হবে এই দাবিও উঠে আসছে সচেতন মহল থেকে। কারণ সুস্থ জীবন যাপন বিলাসিতা নয় এটি একটি রাষ্ট্রের কাছে তার জনগণের মৌলিক অধিকার।
