
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। সারা বিশ্বের হিন্দু বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মহাসাড়ম্বরে পালিত হয় এই পুজো। মূলত পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, বাংলাদেশে এই পুজো বাঙ্গালীদের সর্বশ্রেষ্ঠ পুজো হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবারে পশ্চিমবঙ্গে দেখা গেল এক নতুন চিত্র। সরকার পালা বদলের পর এবারে বাংলার সরকার পরিচালনা করছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ অবস্থায় দেখা গেল এ বছর দূর্গা পূজা বন্ধ হচ্ছে কলকাতায়। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজোকে “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। কিন্তু সরকারের পালা বদলের পর প্রথম দুর্গা পুজোতে বাধা? শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ তার এক্স হেন্ডেলে একটি পোষ্টের মাধ্যমে দাবি করেছেন উত্তর কলকাতার ২০ পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি এ বছর দূর্গা পূজা করবেন না। যদিও গত ২৯ শে জুলাই দুর্গাপুজো প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য খুঁটিপুজো করেছিল এই পুজো আয়োজকরা। সম্প্রীতি আয়োজকরা একটি পোস্টার লাগিয়েছেন যেখানে লেখা, কিছু ব্যক্তি এবং বর্তমান পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে এ বছর দুর্গাপুজো না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। নিজের পোস্টে এমনটাই দাবি করেছেন কুনাল ঘোষ।

যদিও এ বিষয়ে সরাসরি আয়োজকদের সিদ্ধান্তের কোন ভিডিও বার্তা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিধায়িকা তথা তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুনাল ঘোষ। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেল পোষ্টে লিখেন “দুর্গাপুজো বন্ধের সিদ্ধান্ত!! কিছু ব্যক্তি ও চাপের জন্য। এই পোস্টারটি উদ্বেগের এবং প্রতিবাদযোগ্য। পুজোয় বাধা দিচ্ছে কারা? বিধায়কের ভূমিকা কী? অবিলম্বে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করুন। উত্তর কলকাতার 20 পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব চাপের ঠেলায় বন্ধ হবে, এটা হতে দেওয়া যায় না। বিজেপি আসার পর পুজো বন্ধের এমন করুণ ঘোষণাপত্রও দেখতে হল। আমরা চাই, জট কেটে পুজো হোক।”

প্রশ্ন হচ্ছে কে বা কারা পূজো না করার জন্য আয়োজকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে? এদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
