Home BREAKING NEWS বিচারকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আইনজীবীরা, ১১ দিন ধরে অচল জেলা আদালত..!

বিচারকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আইনজীবীরা, ১১ দিন ধরে অচল জেলা আদালত..!

by News On Time Tripura
0 comment

উদয়পুর প্রতিনিধি :

প্রায় ১১ দিন ধরে অচল গোমতী জেলা আদালত! বিচারপ্রার্থীদের হাহাকার, কাঠগড়ায় বিচারব্যবস্থা বিচারক রবি ধাইয়ার বিরুদ্ধে অপমানজনক আচরণ ও একাধিক গুরুতর অভিযোগে অনড় আইনজীবীরা, নতুন বিচারক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত।এক-দু’দিন নয়, টানা ১১ দিন ধরে কার্যত অচল গোমতী জেলা ও দায়রা আদালত! বিচারকের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের আন্দোলনে থমকে রয়েছে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম। আর এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠেছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। কেউ জামিনের আশায়, কেউ মামলার শুনানির অপেক্ষায়, আবার কেউ দূর-দূরান্ত থেকে অর্থ ও সময় ব্যয় করে আদালতে এসেও কার্যত খালি হাতে ফিরছেন। প্রশ্ন উঠছে—বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দিনের পর দিন দুর্ভোগের শিকার হবেন কেন সাধারণ মানুষ?গোমতী জেলা ও দায়রা বিচারক রবি ধাইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিচারকের কথাবার্তা, আচরণ এবং একাধিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আদালতের স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিচারকের পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আদালতের কাজে যোগ না দেওয়ার অবস্থানে অনড় আইনজীবীরা।গোমতী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা সুমন্ত চক্রবর্তীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে আগেই উচ্চ আদালতের বিচারপতি এবং রেজিস্ট্রার জেনারেল-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর সুরাহা মেলেনি। ফলে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক আইনজীবীও সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন।আইনজীবীদের অভিযোগ, প্রকাশ্য আদালতে তাঁদের সম্পাদিকাকে ‘ইডিয়ট’, ‘ক্রীতদাস’-সহ অপমানজনক শব্দে সম্বোধন করা হয়েছে। এমনকি মহিলা আইনজীবীদের উদ্দেশেও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবী মহলের প্রশ্ন, আদালতের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি আইনজীবীদেরই অপমানিত হতে হয়, তাহলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকবে কীভাবে?শুধু কথাবার্তা বা আচরণ নয়, বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনরত আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি জমা দিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১৭ ধারায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি। এর জেরে জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।এখানেই শেষ নয়। সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটরের মুখ পুলিশ কনস্টেবলকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর অভিযোগও সামনে এনেছেন আইনজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, এমন ঘটনা আইনজীবী মহলকে চরম অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই মামলায় একাধিক অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের একসঙ্গে পরীক্ষা না করে পৃথক পৃথক দিনে হাজির করানোর অভিযোগও উঠেছে।সব মিলিয়ে আদালতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি হলেও, এই অচলাবস্থার বাস্তব মূল্য যে সাধারণ মানুষকে চোকাতে হচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিচারপ্রার্থীদের অপরাধ কী?মামলার শুনানির আশায় কেউ দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন, কেউ জামিনের আশায় উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ যাতায়াতের খরচ ও কর্মদিবস নষ্ট করেও বিচার পাচ্ছেন না। আদালত যদি এভাবে অচল হয়ে থাকে, তাহলে এই মানুষের দুর্ভোগের দায় নেবে কে? বিচারপ্রার্থীদের কাছে বিচার পাওয়া কোনও অনুগ্রহ নয়, এটি তাঁদের অধিকার। অথচ দীর্ঘ ১১ দিনের অচলাবস্থায় সেই অধিকার কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে।আইনজীবীদের দাবি, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান জেলা ও দায়রা বিচারক রবি ধাইয়ার পরিবর্তে নতুন বিচারক নিয়োগের দাবিও জোরালো হয়েছে।আন্দোলনরত আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রবি ধাইয়া যতদিন গোমতী জেলা ও দায়রা বিচারকের পদে বহাল থাকবেন, ততদিন তাঁরা আদালতে কাজে যোগ দেবেন না।ফলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল। একদিকে বিচারকের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে দিনের পর দিন বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। এখন দেখার, সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালত ও প্রশাসন এই সংকট নিরসনে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কারণ, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথ সচল রাখা।

You may also like