
চড়িলামঃ কমলাসাগর কালীমায়ের চরণে প্রনাম জানিয়ে বিজেপি সিপাহীজলা উত্তর জেলার উদ্যোগে বিশ্রামগঞ্জ মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট চাইলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন পূর্বতন বাম সরকারে আমলে রোজভ্যালী ঘোটালা, ১১৫ কোটি টাকার রেগার ঘোটালা, বিশালগড় ব্লকের ১৭ কোটি টাকার ঘোটালা, রূপাইছড়ি ব্লকের ঘোটালা এবং রাজ্যের সবচেয়ে বড় হেলথ স্কিম ঘোটালার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সরকার অনেকটাই স্বচ্ছ বলে উল্লেখ করেন অমিত শাহ। রাজ্যের বিজেপি সরকার জনগনকে ঘোটালার পরিবর্তে দিয়েছে পানীয় জল, গ্যাস, ঘর, ফ্রি রেশন, কৃষক সম্মান নিধির মতো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা। কর্মচারীদের দিয়েছে সপ্তম বেতন কমিশন, ১৩ লক্ষ আয়ুষ্মান ভারত যোজনার স্বাস্থ বিমার সুবিধা। ফলে আগামী দিনে রাজ্যবাসীর কল্যানে সরকার বেশ কিছু নতুন প্রকল্প আনার চিন্তা ভাবনা করেছে। এর মধ্যে কলেজ পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রীদের স্কুটি প্রদান, কৃষকদের কৃষক সম্মান নিধি ২০০০ টাকা বাড়িয়ে ৮০০০ টাকা করা, গৃহহীনদের ২০২৫ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ আবাস যোজনার আওতায় আনা, আগরবাতি মিশন, ব্যাম্বু মিশন এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন যে বিষয়টি তা হল চা শ্রমিকদের দুই গন্ডা ভূমির বন্দোবস্ত করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। গত ১৫ নভেম্বর বিশ্ব জনজাতি দিবস পালন করে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জনজাতি সংগ্রহ শালা নির্মানের যেই কাজ চলছে তাতে জনজাতিদের উপযুক্ত সম্মান দেওয়ার বিষয়টিও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের একটি ভোট দলীয় প্রার্থীদের জেতানো কিংবা মুখ্যমন্ত্রী বা উপমুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা নয় ভোটটা হবে ত্রিপুরাকে সমৃদ্ধ করার পক্ষে। ফলে বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে ত্রিপুরাকে সমৃদ্ধ করা। নরেন্দ্র মোদী এবং মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য উন্নয়নের নিরিখে আরও এগিয়ে যাবে। তাই আগামী পাঁচ বছর দুজনের জোড়িকে আরও একবার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজকের এই জনসভায় ব্যপক জনসমাগম দেখে সিপিএম তথা বিরোধী জোট এক প্রকার পরাজয় স্বীকার করে নেবেন বলেও তিনি জানান। তাছাড়া এই মাঠেই বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারকে ভোট চাওয়ার আগে তার আমলে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘোটালার হিসাব জনগনের সামনে তুলে ধরারও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সিপাহীজলা উত্তরের অধিন পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি দলের পদ প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করে জনগনের প্রতিনিধিত্ব করতে পবিত্র বিধানসভায় পাঠানোর আহ্বান জানান। এদিনের এই বিজয় সংকল্প রেলীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি দলের পূর্বোত্তরের নির্বাচনি প্রভারী ডঃ সম্বিত পাত্রা, ত্রিপুরার নির্বাচনি প্রভারী মহেন্দ্র সিং, উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেব্বর্মন সহ অন্যান্যরা।
